Ad Code

Responsive Advertisement

বিষণ্ণতা সঙ্গী যাদের

  

বিষণ্ণতা সঙ্গী যাদের


বিষণ্ণতা বলতে অনেকে মন খারাপকে বুঝে থাকেন। হতাশ, মন খারাপ, অস্থীরতা, এবং এমন কি সবকিছুর প্রতি অনীহা বোধ করায় হচ্ছে মানসিক সমস্যা। এমন মানসিক সমস্যায় হচ্ছে বিষন্নতা। বিষণ্ণতাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সাধারণভাবে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন তার জীবদ্দশায় কখনো না কখনো বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন বা হতে পারেন। একজন মানুষের কোনো বিষয়ে প্রত্যাশা পূরণ না হওয়া বা এ ধরণের নানা কারণে মন বিষণ্ণ হতেই পারে। সাধারণত শারীরিক, মানসিক আর সামাজিক কারণে বিষণ্নতা হয়ে থাকে। দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক রোগ, যেমন ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, ক্যানসার, শ্বাসকষ্টের সমস্যা ইত্যাদিতে যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই দীর্ঘমেয়াদি রোগগুলোকে দ্রুত শনাক্ত আর নিয়ন্ত্রণের জন্য সচেতনতা তৈরিকরতে হবে। মানসিক কোনো টানাপোড়েন আর ব্যক্তিত্বের গড়ন বিষণ্নতার জন্য দায়ী। বিভিন্ন ধরনের শাররীক ও মানসিক বিধস্তার মাধ্যমে বিষন্নতার লক্ষণ প্রকাশ পায় যার কারণে ব্যক্তিগত, পারিবারিক, শিক্ষাগত, পেশাগত ও সামাজিক ভাবে জীবন ক্ষতিগ্রহস্ত হয় এবং স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যাহত হয়। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিষণ্নতাযুক্ত নাগরিকের অনুৎপাদনশীলতা ও চিকিৎসাব্যয়ের কারণে রাষ্ট্র ও সমাজে বিষণ্নতা আর্থসামাজিক প্রভাব তৈরি হয়। বেশির ভাগ আত্মহত্যাই ঘটে বিষণ্নতার কারণে। এর মধ্যে আত্মহত্যা প্রতিরোধেও বিষণ্নতা শনাক্ত আর প্রতিকারের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বিষণ্ণতায় আক্রান্তদের মধ্যে পনের শতাংশের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি হয়ে থাকে।

বিষন্নতাসঙ্গী যাদের দুঃখ গলার মালা

অতীত স্মৃতিগুলো আগুন হয়ে বাড়ায় বুকের জ্বালা।

এ অতীত কিছু বি-স্মৃতিগুলোই অনেক সময় প্রধান ও একমাত্র কারণ হয়ে দাঁড়ায়।




 

বিষণ্ণতা আসলে কি?

একজন মানুষের মধ্যে যে কোনো আবেগ গত পরিবর্তন যদি কিছু দিন ক্রমান্বয়ে দেখা যাচ্ছে এবং সেটা দৈনন্দিন কাজকে প্রভাবিত করে সেটাই বিষণ্ণতা। আসলে বিষণ্ণতা বলতে যেটা বুঝায়, একজন মানুষ তার স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে গিয়ে সবসময় ভুল করে বা কর্মস্পৃহা হারায়, মন সব সময় খারাপ থাকে, কোনো জায়গায় মনস্থীর করতে পারে না, ঘুমের অসুবিধা হয়, খাবারে রুচিহীন হয়ে পরে যদি নির্দিষ্ট কিছু লক্ষণ একজন ব্যক্তির মধ্যে নির্দিষ্ট সাপ্তাহ বা দু-সাপ্তাহ ক্রমান্বয়ে থাকে,তখনই ধরে নিতে হবে সেটা বিষণ্ণতা। বিষণ্ণতা মানুষের মনের একটি স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া যা মানুষের অবচেতন মনের দ্বার। সেটা দীর্ঘদিন স্থায়ী হলেই সেটা হবে বিষণ্ণতা।

হঠাৎ করে একজন মানুষ শারীরিক কোনো কারণছাড়া, চোখে ঘুম থাকা স্বত্বেও ঘুম আসে না, কাজে কোনো ধরনের উদ্যোগ পাচ্ছে না বা কাজের কোনো স্পৃহা পাচ্ছে না, তার সবকিছু করার বোঝার ক্ষমতা থাকা স্বত্ত্বেও মনোনিবেশ করতে পারছে না, তার মধ্যে একটা সবসময় একটা ক্লান্তিবোধ কাজ করে, এতটাই মন খারাপ থাকে যে সে স্বাভাবিক অবস্থার মধ্যে অবস্থান করতে পারে না, মনে রাখতে হবে সেই ব্যক্তি বা মানুষটি বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। বিষণ্ণতা এমন একটি রোগ মানসিক রোগ এবং হতাশাজনক ব্যাধি সব সময় দুঃখবোধ করা।

আমার জীবনের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থেকে (এক + এক = দুইটি) সত্য ঘটনা লিখছি।

এক

গলায় ক্যান্সার হয়ে আমার শশুড়-শাশুড়ী ৬মাসের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন। আমার স্ত্রী আমাকে সময় বলতে থাকে আমার গলায় কিছু একটা লাগতেছে এবং ব্যাথা করতেছে। আমি বুঝলাম স্বল্প সময়ের মধ্যে বাবা-মা এর মৃত্যু তাকে পীড়া দিচ্ছে। তাই আমি চট্টগ্রাম বন্দর কৃর্তপক্ষের ডাক্তার নজরুল সাহেবের কাছে নিয়ে গেলাম। উনাকে গলার ব্যাপারটা বললাম সাথে তার বাবা-মা এর মৃত্যুর ব্যাপারটা জানালাম। উনি দেখে বললাম আমি এই রোগের চিকিৎসা করবো না একজন ডাক্তারের রেফার করছি উনার কাছে যান। উনি পিজির ডাক্তার, চট্টগ্রামের লাইফ লাইনে বসে। নাক, কান, গলার ডাক্তার। ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলাম। আমার স্ত্রীকে দেখানোর আগে আমি উনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করলাম। বললাম রোগী আমি নয় আমার স্ত্রী। আমি আগে আসার কারণ হচ্ছে আমার মনে হচ্ছে আমার স্ত্রী’র কোন রোগ নাই। সে বিষণ্ণতায় ভোগছে। কারণ তার বাবা-মা দু’জনই সম্প্রতি গলায় ক্যান্সার জনিত কারণে মারা গেছেন। এর পর থেকে সে এভাবে আমাকে প্রায় বলছে। তাই আপনার স্মরণাপন্ন হলাম। যদি সত্যি রোগ থাকে আমি ট্রিটম্যান্ট করবো। যদি বিষণ্ণতা হয় তাহলে কি করবো? তখন উনি বললেন ঠিক আছে নিয়ে আসেন। আমার স্ত্রীর সাথে কথা বললেন। তারপর আমার স্ত্রীকে উনার গলা দেখালেন বললেন দেখেন আপনার গলায় যে জিনিষটা আপনি দেখছেন সেই জিনিষটা আমার গলায় আছে কিনা? আমার স্ত্রী দেখে বললেন হ্যা আছে। অর্থাৎ এটা কোন রোগ না। পৃথিবীতে যত মানুষ আছে সব মানুষের গলায় এই হাড় থাকে। এটা যদি অতিরিক্ত বেড়ে যায় তাহলে আমরা তা কেটে ফেলি। আপনার গলায় যেমন আছে আমার গলায়ও অনুরূপ তাহলে আপনারটা অপারেশন করাবেন কেন? আপনার অপারেশন করালে আমি টাকা পাবো। তাতে আমার লাভ হবে ক্ষতি হবে আপনার। আপনার শরীরে একটা স্পট হয়ে যাবে। আপনি সম্পূর্ণ সুস্থ্য। কোন রোগ নাই আপনার। আপনি এমন চিন্তা করবেন। লিখা পড়া জানা শিক্ষিত মেয়ে যদি ভুল চিন্তা করেন তাহলে হয়? কোন ওষুধ দিচ্ছি না শুধু রাতে শোয়ার সময় গরম পানি দিয়ে একটু গারগিলিং করবেন। কয়েকদিনের মধ্যে আমার স্ত্রীর মন থেকে সেই চিন্তা কেটে গেল। অর্থাৎ বুঝলাম আল্লাহর রহমতে আমার স্ত্রী সম্পূর্ণ সুস্থ্য।

দুই

পেশায় আমি একজন শিক্ষক। একদিন ক্লাস করাচ্ছি। হঠাৎ একটা ছেলের দিকে চোখ পরলো। ছেলেটা চোখ, মুখ সম্পূর্ণ লাল হয়ে গেল। এমন দেখে তাকে ক্লাশ থেকে বাহিরে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম এমন পরিস্থিতি তোমার হওয়ার কথা না। এমন করছো কেন? তুমি নির্ভয়ে স্যারকে বল। আমি তোমায় সম্পূর্ণ সহযোগীতা করবো। অনেক চেষ্টায় তার থেকে ব্যাপারটা জানলাম, সে নেশাগ্রস্থ। তার কারণ তার বান্ধবী তাকে ছেড়ে চলে গেছে। বন্ধুরাও তার সাথে এখন কেউ মিশে না। বন্ধুদের সাথেও প্রতিদিন ঝগড়া হয়। তাই সে এই পথ বেছে নিয়েছে। তাকে জিজ্ঞেস তোমার বাবা-মা ব্যাপারটা জানে। সে বললো জানে। কোন ডাক্তারের সাথে কথা বলেনি। বলেছে আমি ডাক্তারের কাছে যায় না। বেঁচে থেকে লাভ কি? তার থেকে তার মায়ের সেল নাম্বার নিয়ে তার মাকে কল দিলাম। ব্যাপারটা জিজ্ঞেস করলাম। আমার একটাই ছেলে, সে কারো কথা শুনছে না। ছুটির পর ওরে নিয়ে আমি বাসায় আসছি। ওর বাবাকেও থাকতে বলিয়েন। ও বাহিরে গিয়ে এসব খাবে কেন সে ঘরে বসেই খাবে। আমি ওরে পড়ানোর দায়িত্ব নিলাম। তারপর ওর বাবা-মায়ের সাথে কথা বললাম আমি ওরে পাস করানোর দায়িত্ব নিচ্ছি না। শাররীক ও মানসিক সুস্থ্যতার দায়িত্ব নিচ্ছি। দোয়া করিয়েন যাতে সফল হয়। আল্লাহর রহমতে ২ মাসের মাথায় সফল করে আল্লাহ। আমি খাওয়াব। সে মধু-পানি আর ফেন্সিড্যাল ফ্লেবার দিয়ে তারে প্রতিদিন ২ বার দিতাম যখন ওর শরীরের কম্পন হতো। শরীরের কম্পন যখন কেটে গেলো, বাস্তব মানসিক স্বাস্থ্যের অবস্থা যা উপদানগুলোর সংমিশ্রণ দ্বারা প্রভাবিত। সেই ছাত্র বিবিএ পাস করে ভালো জব করে এবং বর্তমানে এক কন্যা সন্তানের জনক।

টিন এইজ যেই ভুলটা করে অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী সেই কারণেই বিষণ্ণ হয় তা হচ্ছে সম্পর্কের ছেদ। কোন ছাত্র-ছাত্রী বিষণ্ণতায় ভোগলে শিক্ষক হিসেবে শিক্ষার্থীদের সাথে মিশে একটা জিনিস পরিষ্কার হওয়া যায় কেউ না কেউ তা জানিয়ে যাবে হয় প্রকাশ্যে অন্যতায় গোপনে। তখন তাদের পরিচর্যা সহজ হয়ে যায়। যেখানে যেমন প্রয়োজন তেমন ব্যবস্থা নেয়া যায়। এমন অনেক ধারণা বুকের মধ্যে ধারণ করা আছে, যা অনেক ছাত্র-ছাত্রীর একান্ত ব্যক্তিগত তাই লিখলাম না।

পরিবর্তন, পরিবর্ধন হতে পারে।

চলমান ২

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ