Ad Code

Responsive Advertisement

খালি পায়ে মাটি বা সবুজ ঘাসের স্পর্শ

 

খালি পায়ে মাটি বা সবুজ ঘাসের স্পর্শ

আপনার কি মনে পড়ছে কখন মাটিতে বা সবুজ ঘাসের ওপর খালি পায়ে হেঁটেছেন? নিশ্চয়ই ভালো করে মনে করতে পারছেন না এ কাজ কখন করেছেন? গ্রাম্য পরিবেশে বেড়ে উঠা আমার মনে আছে প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে তুলে দিয়ে খালি পায়ে হাঁটার নির্দেশ ছিল আমার দিদামনির। স্কুলে বা কোথাও যাতায়াত ছাড়া সন্ধ্যার আগে পায়ে সেন্ডেল দেখলে বেত্রাগাত করতো। শীতকালে কুয়াশা আচ্ছন্ন ঘাসের উপর খালি পায়ে হাটতে খুব ভাল লাগতো এবং মাটির ডেলার উপর দাঁড়িয়ে মিষ্টি নরম রোদের স্নিগ্ধ সকাল বেলা উপভোগের মজাই আলাদা। আধুনিক সভ্যতায় এমন মজা খঁজে পাওয়া যাবে বলে আমার মনে হয় না। কথায় আছে না, “বিজ্ঞান আমাদের দিয়েছে বেগ কেড়ে নিয়েছে আবেগ”।  উনি বলতেন, ”এভাবে হাঁটলে শরীরে কোনও অসুখ বিসুখ হয় না“। এখন তো শহরে ঘাস খুঁজে পাওয়া দূস্কর। বিশেষ করে বর্তমানে আমরা যারা শহরে বাস করি, তারা সাধারণত মাটি বা ঘাসের স্পর্শ থেকে বঞ্চিত। অনেকেই সকালবেলা ব্যায়াম করলে বা হাটাহাটি করলেও খালি পায়ে কেউ ব্যায়াম বা হাটাহাটি করি না বললেই চলে। আধুনিক সমাজ ব্যবস্থার চাপে পরে আমরা আসলে মাটির সংস্পর্শ হারাচ্ছি। খালি পায়ে হাটার অনেক ধরনের উপকারিতা আছে যা সারাক্ষন জুতা পরে থাকার জন্য গুরুত্ব দেয়া আমাদের মূল ধারার সমাজ ব্যবস্থাকে অনেক সময় ছাপিয়ে যায়। বাস্তবিকই খালি পায়ে হাঁটার অভ্যাস করলে শরীরের কোনও ক্ষতি হয় না বরং অনেক উপকার পাওয়া যায়। একদম খাটি বাংলা হচ্ছে মাথা ঠান্ডা থাকে, ডাক্তারী বিদ্যায়ও প্রমাণিত।

                    

 

ডঃ মারকোলার মতে, “খালি পায়ে মাটি স্পর্শ করে হাঁটলে তা সরাসরি মাটি থেকে দেহে নেগেটিভ ইলেকট্রন শোষণ করে যা আভ্যন্তরীণ বায়োইলেক্ট্রিক্যাল পরিবেশের ভারসাম্যতা সৃষ্টি করতে সাহায্য করে”।

আমরা যদি আমাদের দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্থার মাঝেই সময় বের করে নিয়ে কিছুটা সময় খালি পায়ে হাঁটি তার উপকারিতা অভাবনীয়। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, খালি পায়ে হাঁটলে রক্তচাপ কমে কারণ খালি পায়ে হাটলে পায়ের নিচের স্নায়ুগুলো বেশ সক্রিয় হয়ে ওঠে ও রক্ত ঘন হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা কমে যায়। জার্নাল অব অলটারনেটিভ অ্যান্ড কমপ্লিমেন্টারি মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণার নিবন্ধ অনুযায়ী, খালি পায়ে হাঁটলে শরীরের ভেতর লোহিত রক্তকণিকাগুলোর চার্জে পরিবর্তন আসে, যা রক্ত জমাট বাঁধতে দেয় না। ফলে  হৃদরোগের ঝুঁকি কমে যায়। ঘাসের ওপর খালি পায়ে হাঁটলে পায়ের নিচে একাধিক নার্ভগুলো সক্রিয় হয়ে শরীরের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি তৈরি করে, এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। মানসিক প্রশান্তি আসে এবং ঘুম খুব ভালো হয়, মস্তিষ্কের ভেতরে থাকা নিউরণগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন একদিকে যেমন স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি পায়, তেমনি বুদ্ধিও বাড়তে শুরু করে এবং দৃষ্টি শক্তি বাড়ে।

                    



 

যান্ত্রিক জীবনে মানুষের সঙ্গে মাটির সংযোগটা একেবারেই কমে গেছে। আমাদের মাঝে এমন অনেকেই আছেন যারা খালি পায়ে হাঁটার কথা চিন্তাও করতে পারেন না, আবার এমন অনেকেই আছেন ইচ্ছা থাকলেও সম্ভব হচ্ছে না। কারন আমাদের দেশে খালি পায়ে হাঁটার ব্যবস্থা সব জায়গাতে পাওয়াও কঠিন একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। খালি পায়ে হাটার ব্যাপারটা অনেকের কাছে এটি অজানা হলেও গবেষণার বদৌলতে এখন জানার সুযোগ হচ্ছে। গবেষণা কার্যক্রমে  গবেষকরা লক্ষ করেছেন খালি পায়ে হাঁটার সঙ্গে আমাদের শরীরের ভাল থাকার সরাসরি যোগ রয়েছে। শুধু তাই নয়, মস্তিষ্কের অন্দরের গঠন থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত শরীরে প্রতিটি কণাকে সুস্থ রাখতে খালি পায়ে হাঁটার কোনও বিকল্প নেই বললেই চলে। এমন কর্মব্যস্ত জীবনে শরীরের খেয়াল রাখা বেশিরভাগ সময়ই সম্ভব হয়ে ওঠে না। তাই তো এমন সহজ পদ্ধতিগুলির সাহায্য নেওয়া উচিত অন্যতায় একদিকে যেমন কমবে আয়ু, তেমনি বাড়বে একাধিক রোগের প্রকোপ। আদিযুগের মানুষ গুলো খালি পায়ে হাটতো তাদের রোগ ব্যাধি কম ছিল, দীর্ঘআয়ু পেত। এখন মানুষগুলো খালি পায়ে হাটতেই লজ্জা পায়। গ্রামের মানুষ যারা চাষাবাদে লিপ্ত তারা মাটির সাথে সরাসরি সম্পর্ক বেশী তাই তাদের রোগব্যাধিও কম। শহরের মানুষের মাটির সাথে সম্পর্ক নেই বললেই চলে তাই তাদের রোগ ব্যাধি বেশী। আসুন আমরা এই সহজ কাজটি সহজেই করি, লজ্জা দূরে সড়িয়ে সুস্থ্য জীবন যাপন করি।

Reactions

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ