সূরা আল-আনফাল
আয়াত সংখ্যা ৭৫
শুরু
করছি
আল্লাহর নামে
যিনি
পরম
করুণাময়, অতি
দয়ালু।
১) তারা আপনার
কাছে
যুদ্ধে
প্রাপ্ত সম্পদ
সম্পর্কে জিজ্ঞেস করে।
বলে
দিন,
গণীমতের মাল
হল
আল্লাহর এবং
রসূলের। অতএব,
তোমরা
আল্লাহকে ভয়
কর
এবং
নিজেদের অবস্থা
সংশোধন
করে
নাও।
যদি
তোমরা
ঈমানদার হয়ে
থাক
তবে
আল্লাহ
এবং
তাঁর
রসূলের
হুকুম
মান্য
কর।
২) মু'মিন তো তারাই
আল্লাহর কথা
আলোচিত
হলেই
যাদের
অন্তর
কেঁপে
উঠে,
আর
তাদের
কাছে
যখন
তাঁর
আয়াত
পঠিত
হয়,
তখন
তা
তাদের
ঈমান
বৃদ্ধি
করে
আর
তারা
তাদের
প্রতিপালকের উপর
নির্ভর
করে।
৩) তারা নামায
প্রতিষ্ঠা করে
এবং
আমি
তাদেরকে যে
রুযী
দিয়েছি তা
থেকে
ব্যয়
করে।
৪) তারাই হল
সত্যিকার ঈমানদার! তাদের
জন্য
রয়েছে
স্বীয়
প্রতিপালকের নিকট
মর্যাদা, ক্ষমা
এবং
সম্মানজনক রুযী।
৫) যেমন করে
তোমাকে
তোমার
পরওয়ারদেগার ঘর
থেকে
বের
করেছেন
ন্যায়
ও
সৎকাজের জন্য,
অথচ
ঈমানদারদের একটি
দল
(তাতে)
সম্মত
ছিল
না।
৬) তারা তোমার
সাথে
বিবাদ
করছিল
সত্য
ও
ন্যায়
বিষয়ে,
তা
প্রকাশিত হবার
পরও;
তারা
যেন
মৃত্যুর দিকে
ধাবিত
হচ্ছে
দেখতে
দেখতে।
৭) স্মরণ করো,
সেই
সময়ের
কথা
যখন
আল্লাহ
তোমাদের সাথে
ওয়াদা
করেছিলেন, দু’টি দলের মধ্য
থেকে
একটি
তোমরা
পেয়ে
যাবে।
তোমরা
চাচ্ছিলে, তোমরা
দুর্বল
দলটি
লাভ
করবে।
কিন্তু
আল্লাহর ইচ্ছা
ছিল,
নিজের
বাণীসমূহের সাহায্যে তিনি
সত্যকে
সত্যরূপে প্রকাশিত করে
দেখিয়ে দেবেন
এবং
কাফেরদের শিকড়
কেটে
দেবেন।
৮) যাতে করে
সত্যকে
সত্য
এবং
মিথ্যাকে মিথ্যা
প্রতিপন্ন করে
দেন,
যদিও
পাপীরা
অসন্তুষ্ট হয়।
৯) স্মরণ করো,
যখন
তোমরা
তোমাদের রবের
কাছে
ফরিয়াদ করছিলে। জবাবে
তিনি
বললেন,
আমি
তোমাদিগকে সাহায্য করব
ধারাবহিকভাবে আগত
এক
হাজার
ফেরেশতার মাধ্যমে।
১০) একথা আল্লাহ
তোমাদের শুধুমাত্র এ
জন্য
জানিয়ে দিলেন
যাতে
তোমরা
সুখবর
পাও
এবং
তোমাদের হৃদয়
নিশ্চিন্ততা অনুভব
করে।
আর
সাহায্য আল্লাহর পক্ষ
থেকে
ছাড়া
অন্য
কারো
পক্ষ
থেকে
হতে
পারে
না।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ
মহাপরাক্রমশালী ও
মহাবিজ্ঞানী।
১১)
যখন
তিনি
নিজের
পক্ষ
থেকে
তোমাদের প্রশান্তির জন্য
আরোপ
করেন
তোমাদের তন্দ্রাচ্ছন্ন এবং
তোমাদের উপর
আকাশ
থেকে
পানি
অবতরণ
করেন,
যাতে
তোমাদিগকে পবিত্র
করে
দেন
এবং
যাতে
তোমাদের থেকে
অপসারিত করে
দেন
শয়তানের অপবিত্রতা। আর
যাতে
করে
সুরক্ষিত করে
দিতে
পারেন
তোমাদের অন্তরসমূহকে এবং
তাতে
যেন
সুদৃঢ়
করে
দিতে
পারেন
তোমাদের পা'গুলো।
১২) যখন তোমাদের পরওয়ারদেগার ফেরেশতাদিগকে নির্দেশ দান
করেন
যে,
আমি
তোমাদের সাথেই
রয়েছি,
অতএব
মুমিনদেরকে তোমরা
দৃঢ়পদ
করে
রাখ।
অচিরেই
আমি
কাফিরদের মনে
ভীতির
সঞ্চার
করে
দেব।
কাজেই
তাদের
স্কন্ধে আঘাত
হান,
আঘাত
হান
প্রত্যেকটি আঙ্গুলের গিঁটে
গিঁটে।
১৩)
যেহেতু
তারা
অবাধ্য
হয়েছে
আল্লাহ
এবং
তাঁর
রসূলের,
সেজন্য
এই
নির্দেশ। বস্তুতঃ যে
লোক
আল্লাহ
ও
রসূলের
অবাধ্য
হয়,
নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি
অত্যন্ত কঠোর।
১৪)
এটাই
তোমাদের শাস্তি,
অতএব
এর
স্বাদ
আস্বাদন কর
এবং
(জেনে
রাখ
যে)
কাফিরদের জন্য
রয়েছে
জাহান্নামের আযাব।
১৫)
হে
ঈমানদারগণ! তোমরা
যখন
কাফিরদের সাথে
মুখোমুখী হবে,
তখন
পশ্চাদপসরণ করবে
না।
১৬)
লড়াইয়ের কৌশল
অবলম্বন কিংবা
নিজ
দলের
সঙ্গে
মিলিত
হওয়ার
উদ্দেশ্য ব্যতীত
কেউ
তাদের
থেকে
পশ্চাদপসরণ করলে,
সে
আল্লাহর গযব
সাথে
নিয়ে
প্রত্যাবর্তন করবে।
আর
তার
ঠিকানা
হল
জাহান্নাম। বস্তুতঃ সেটা
হল
নিকৃষ্ট অবস্থান।
১৭) (আসল ব্যাপার হল)
তোমরা
তাদেরকে হত্যা
করনি,
বরং
আল্লাহই তাদেরকে হত্যা
করেছেন। আর
তুমি
যখন
তা
নিক্ষেপ করেছিলেন, তাতো
তুমি
(মাটির
মুষ্ঠি)
নিক্ষেপ করনি,
বরং
তা
নিক্ষেপ করেছিলেন আল্লাহই যেন
মুমিনদেরকে একটি
চমৎকার
পরীক্ষায় সফলতার
সাথে
পার
করতে
পারেন।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ
শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।
১৮)
(এ
ব্যাপারটি তো
তোমাদের সাথে)
আর
জেনে
রেখো,
আল্লাহ
নস্যাৎ
করে
দেবেন
কাফেরদের সমস্ত
কলা-কৌশল।
১৯)
(ওহে
কাফিরগণ!) তোমরা
যদি
মীমাংসা কামনা
কর,
তাহলে
তোমাদের নিকট
মীমাংসা পৌঁছে
গেছে।
আর
যদি
তোমরা
প্রত্যাবর্তন কর,
তবে
তা
তোমাদের জন্য
উত্তম,
আর
তোমরা
যদি
আবার
(অন্যায়) কর,
তবে
আমিও
তেমনি
(শাস্তি)
দিব।
বস্তুতঃ তোমাদের দলবল
যত
বেশীই
হোক
না
কেন,
তা
তোমাদের কোন
কাজে
আসবে
না।
জেনে
রেখ
আল্লাহ
রয়েছেন মুমিনদের সাথে।
২০)
হে
ঈমানদারগণ! আল্লাহ
ও
তাঁর
রসূলের
নির্দেশ মান্য
কর
এবং
আদেশ
শোনার
পর
তা
থেকে
বিমুখ
হয়ো
না।
২১)
আর
তাদের
অন্তর্ভুক্ত হয়ো
না,
যারা
বলে
যে,
আমরা
শুনেছি,
অথচ
তারা
শোনেনা।
২২)
নিঃসন্দেহে আল্লাহ
তা’আলার নিকট সবচেয়ে নিকৃষ্ট ধরনের
প্রাণী
হচ্ছে
তারাই
যারা
মূর্ক
ও
বধির,
যারা
উপলদ্ধি করে
না।
২৩)
বস্তুতঃ যদি
আল্লাহ
জানতেন,
এদের
মধ্যে
সামান্য পরিমাণও ভাল
গুণ
আছে
তাহলে
নিশ্চয়ই তিনি
তাদেরকে শুনতে
উদ্বুদ্ধ করতেন।
আর
(এ
গুণ
না
থাকা
অবস্থায়) যদি
তিনি
তাদের
শুনাতেন তাহলে
তারা
নির্লিপ্ততার সাথে
মুখ
ফিরিয়ে নিতো।
২৪)
হে
ঈমানদারগণ! আল্লাহ
ও
তাঁর
রসূলের
ডাকে
সাড়া
দাও,
যখন
তোমাদের সে
কাজের
প্রতি
আহবান
করা
হয়,
যাতে
রয়েছে
তোমাদের জীবন।
জেনে
রেখো,
আল্লাহ
মানুষের এবং
তার
অন্তরের মাঝে
অন্তরায় হয়ে
যান।
বস্তুতঃ তোমরা
সবাই
তাঁরই
নিকট
সমবেত
হবে।
২৫)
আর
তোমরা
এমন
ফাসাদ
থেকে
বেঁচে
থাক
যার
শাস্তি
বিশেষতঃ শুধু
তাদের
উপর
পতিত
হবে
না
যারা
তোমাদের মধ্যে
জালিম
এবং
জেনে
রেখ
যে
আল্লাহর আযাব
অত্যন্ত কঠোর।
২৬)
স্মরণ
করো
সেই
সময়ের
কথা
যখন
তোমরা
ছিলে
সামান্য কয়েকজন। পৃথিবীর বুকে
তোমাদের দুর্বল
মনে
করা
হতো।
তোমরা
আশঙ্কা
করতে,
লোকেরা
তোমাদের কখন
না
ছোঁ
মেরে
নিয়ে
যায়।
অতঃপর
তিনি
তোমাদিগকে আশ্রয়
দিয়েছেন, স্বীয়
সাহায্য দ্বারা
তোমাদিগকে শক্তি
দান
করেছেন
এবং
উত্তম
জীবিকা
দিয়েছেন যাতে
তোমরা
শুকরিয়া আদায়
কর।
২৭)
হে
ঈমানদারগণ! তোমরা
আল্লাহর সাথে
ও
রসূলের
সাথে
বিশ্বাসঘাতকতা করোনা
এবং
বিশ্বাসঘাতকতা করোনা
নিজেদের পারস্পরিক আমানতসমূহের।
২৮)
জেনে
রাখো,
তোমাদের অর্থ-সম্পদ ও তোমাদের সন্তান-সন্ততি হচ্ছে পরীক্ষার সামগ্রী মাত্র।
বস্তুতঃ আল্লাহর নিকট
রয়েছে
মহাপুরস্কার।
২৯)
হে
ঈমানদারগণ! তোমরা
যদি
আল্লাহকে ভয়
করতে
থাক,
তবে
তিনি
তোমাদেরকে ভালো
মন্দের
মধ্যে
ফয়সালা করার
শক্তি
প্রদান
করবেন,
তোমাদের থেকে
তোমাদের পাপকে
সরিয়ে
দিবেন
এবং
তোমাদের ক্ষমা
করবেন।
বস্তুতঃ আল্লাহ
বড়ই
অনুগ্রহশীল।
৩০)
স্মরণ
করুন,
কাফিররা যখন
আপনাকে
বন্দী
করার
কিংবা
হত্যা
করার
কিংবা
দেশ
থেকে
আপনাকে
বের
করে
দেয়ার
ষড়যন্তর করত।
তারা
চক্রান্ত করে
আল্লাহও কৌশল
করেন।
বস্তুতঃ আল্লাহই হচ্ছেন
সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।
৩১)
আর
কেউ
যখন
তাদের
নিকট
আমার
আয়াতসমূহ পাঠ
করে
তখন
বলে,
আমরা
শুনেছি,
ইচ্ছা
করলে
আমরাও
এমন
বলতে
পারি;
এগুলোতো পূর্ববর্তী কেচ্ছাকাহিনী ছাড়া
আর
কিছুই
না।
৩২)
স্মরণ
কর,
যখন
তারা
বলছিল,
ইয়া
আল্লাহ!
এই
যদি
তোমার
পক্ষ
থেকে
(আগত)
সত্য
দ্বীন
হয়ে
থাকে,
তবে
আমাদের
উপর
আকাশ
থেকে
প্রস্তর বর্ষণ
কর
কিংবা
আমাদের
উপর
বেদনাদায়ক আযাব
নাযিল
কর।
৩৩)
অথচ
আল্লাহ
কখনই
তাদের
উপর
আযাব
নাযিল
করবেন
না
যতক্ষণ
আপনি
তাদের
মাঝে
অবস্থান করবেন
এবং
তারা
যতক্ষণ
ক্ষমা
প্রার্থনা করতে
থাকবে
আল্লাহ
কখনও
তাদের
উপর
আযাব
দেবেন
না।
৩৪)
আর
তাদের
মধ্যে
এমন
কি
বিষয়
রয়েছে,
যার
ফলে
আল্লাহ
তাদের
উপর
আযাব
দান
করবেন
না
যখন
তারা
মসজিদে-হারামে যেতে বাধা
দিচ্ছে?
অথচ
তারা
এ
মসজিদের বৈধ
মুতাওয়াল্লীও নয়।
এর
বৈধ
মুতাওয়াল্লী হতে
পারে
একমাত্র তাকওয়াধারীরাই। কিন্তু
অধিকাংশ লোক
একথা
জানে
না।
৩৫)
আর
কা’বার নিকট তাদের
নামায
বলতে
শিস
দেয়া
আর
তালি
বাজানো
ছাড়া
অন্য
কোন
কিছুই
ছিল
না।
অতএব,
এবার
নিজেদের কৃত
কুফরীর
প্রতিদানে এখন
আযাবের
স্বাদ
গ্রহণ
করো।
৩৬)
নিঃসন্দেহে যেসব
লোক
সত্যকে
মেনে
নিতে
অস্বীকার করেছে,
তারা
ব্যয়
করে
নিজেদের ধন-সম্পদ, যাতে করে
বাধাদান করতে
পারে
আল্লাহর পথে।
বস্তুতঃ এখন
তারা
আরো
ব্যয়
করবে।
তারপর
এটাই
তাদের
জন্য
আক্ষেপের কারণ
হবে
এবং
শেষ
পর্যন্ত তারা
হেরে
যাবে।
আর
যারা
কাফির
তাদেরকে দোযখের
দিকে
তাড়িয়ে নিয়ে
যাওয়া
হবে।
৩৭)
যাতে
আল্লাহ
পৃথক
করে
দেন
কলুষতাকে পবিত্রতা থেকে।
আর
অপবিত্রদের এককে
অন্যের
উপর
স্থাপন
করে
সমবেত
স্তুপে
পরিণত
করেন
এবং
পরে
তা
দোযখে
নিক্ষেপ করেন।
এরাই
হল
সর্বস্বান্ত।
৩৮)
তুমি
কাফিরদের বলে
দাও,
তারা
যদি
বিরত
হয়ে
যায়,
তবে
যা
কিছু
পূর্বে
ঘটে
গেছে
তা
ক্ষমা
করা
হবে।
কিন্তু
যদি
তারা
আগের
আচরণের
পুনরাবৃত্তি করে,
তাহলে
অতীতের
জাতিগুলোর সাথে
যা
কিছু
ঘটে
গেছে
তা
সবার
জানা।
`
৩৯)
আর
তাদের
বিরুদ্ধে যুদ্ধ
করতে
থাক
যতক্ষণ
না
ভ্রান্তি শেষ
হয়ে
যায়;
এবং
আল্লাহর সমস্ত
হুকুম
প্রতিষ্ঠিত হয়ে
যায়।
তারপর
যদি
তারা
বিরত
হয়ে
যায়,
তবে
আল্লাহ
তাদের
কার্যকলাপ লক্ষ্য
করেন।
৪০)
আর
তারা
যদি
না
মানে,
তবে
জেনে
রাখ,
আল্লাহ
তোমাদের অভিভাবক; এবং
কতই
না
উত্তম
সাহায্যকারী।
৪১)
আর
তোমরা
জেনে
রাখো,
তোমরা
যা
কিছু
গনীমাতের মাল
লাভ
করেছো
তার
পাঁচ
ভাগের
এক
ভাগ
আল্লাহ,
তাঁর
রসূল,
আত্মীয়স্বজন, এতীম,
মিসকীন
ও
মুসাফিরদের জন্য
নির্ধারিত; যদি
তোমরা
ঈমান
এনে
থাকো
আল্লাহর প্রতি
এবং
ফায়সালার দিন
অর্থাৎ
উভয়
পক্ষের
সামনা-সামনি মোকাবিলার দিন
আমি
নিজের
বান্দার ওপর
যা
নাযিল
করেছিলাম তার
প্রতি,
আল্লাহ
প্রত্যেকটি জিনিসের ওপর
শক্তিশালী। আর
আল্লাহ
সব
কিছুর
উপরই
ক্ষমতাশীল।
৪২)
আর
যখন
তোমরা
ছিলে
উপত্যকার এক
প্রান্তে আর
তারা
ছিল
অন্য
প্রান্তে অথচ
কাফেলা
তোমাদের থেকে
নীচে
নেমে
গিয়েছিল। এমতাবস্থায় যদি
তোমরা
পারস্পরিক অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে,
তবুও
তোমরা
এ
সিদ্ধান্ত রক্ষা
করতে
পারতে
না।
কিন্তু
আল্লাহ
তা’আলা এমন এক
কাজ
করতে
চেয়েছিলেন, যা
পূর্বেই নির্ধারিত হয়ে
গিয়েছিল যাতে
যাকে
ধ্বংস
হতে
হবে
সে
সুস্পষ্ট প্রমাণ
সহকারে
ধ্বংস
হবে
এবং
যাকে
জীবিত
থাকতে
হবে
সে
সুস্পষ্ট প্রমাণ
সহকারে
জীবিত
থাকবে।
নিশ্চয়ই আল্লাহ
সবকিছু
শোনেন
ও
সবকিছু
জানেন।
৪৩)
স্মরণ
করো
সে
সময়ের
কথা,
যখন
(হে
নবী)
আল্লাহ
তোমার
স্বপ্নের মধ্যে
তাদেরকে সামান্য সংখ্যক
দেখাচ্ছিলেন। যদি
তিনি
তোমাকে
তাদের
সংখ্যা
বেশী
দেখিয়ে দিতেন
তাহলে
নিশ্চয়ই তোমরা
সাহস
হারিয়ে ফেলতে
এবং
যুদ্ধ
করার
ব্যাপারে ঝগড়া
শুরু
করে
দিতে।
কিন্তু
আল্লাহই তোমাদেরকে রক্ষা
করেছেন। তিনি
মনের
অবস্থা
ভালো
করেই
জানেন।
৪৪)
স্মরণ
কর,
যখন
সামনাসামনি যুদ্ধের সময়
আল্লাহ
তোমাদের দৃষ্টিতে শত্রুদের সামান্য সংখ্যক
দেখিয়েছেন এবং
তাদের
দৃষ্টিতেও তোমাদের কম
করে
দেখিয়েছেন, যাতে
যে
বিষয়টি অনিবার্য ছিল
তাকে
আল্লাহ
প্রকাশ্যে নিয়ে
আসেন
এবং
শেষ
পর্যন্ত সমস্ত
বিষয়
আল্লাহর দিকেই
ফিরে
যায়।
৪৫)
হে
ঈমানদারগণ! যখন
কোন
দলের
সাথে
তোমাদের মোকাবিলা হয়,
তোমরা
দৃঢ়পদ
থাকো
এবং
আল্লাহকে অধিক
পরিমাণে স্মরণ
কর
যাতে
তোমরা
উদ্দেশ্যে কৃতকার্য হতে
পার।
৪৬)
আর
আল্লাহ
ও
তাঁর
রসূলের
আনুগত্য করো
এবং
নিজেদের মধ্যে
বিবাদ
করো
না,
তাহলে
তোমাদের মধ্যে
দুর্বলতা দেখা
দেবে
এবং
তোমাদের প্রতিপত্তির দিন
শেষ
হয়ে
যাবে।
আর
তোমরা
ধৈর্য্যধারণ কর।
নিশ্চয়ই আল্লাহ
তা'আলা রয়েছেন ধৈর্য্যশীলদের সাথে।
৪৭)
আর
তাদের
মত
হয়ে
যেয়ো
না,
যারা
বেরিয়েছে নিজেদের অবস্থান থেকে
গর্ব-অহঙ্কারসহ লোকদেরকে দেখাবার উদ্দেশে এবং আল্লাহর পথে
তারা
বাধা
দান
করতে।
বস্তুতঃ আল্লাহর আয়ত্বে রয়েছে
সে
সমস্ত
বিষয়
যা
তারা
করে।
৪৮)
সেই
সময়ের
কথা
একটু
মনে
করো,
যখন
শয়তান
এদের
কার্যকলাপকে এদের
চোখে
ঔজ্জ্বল্যময় করে
দেখিয়েছিল এবং
এদেরকে
বলেছিল,
আজ
তোমাদের ওপর
কেউ
বিজয়ী
হতে
পারে
না
এবং
আমি
তোমাদের সাথে
আছি।
কিন্তু
যখন
উভয়
বাহিনীর সামানাসামনি মোকাবিলা শুরু
হলো
তখনই
সে
পিছনের
দিকে
ফিরে
গেলো
এবং
বলতে
লাগলো,
তোমাদের সাথে
আমার
কোন
সম্পর্ক নেই।
আমি
এমন
কিছু
দেখছি
যা
তোমরা
দেখো
না।
আমি
আল্লাহকে ভয়
পাচ্ছি। আর
আল্লাহর আযাব
অত্যন্ত কঠিন।
৪৯)
স্মরণ
কর,
যখন
মুনাফিকরা এবং
যাদের
অন্তরে
রোগ
আছে
তারা
সবাই
বলছিল,
এদের
দ্বীনই
তো
এদের
ধোঁকায় ফেলে
দিয়েছে। অথচ
যদি
কেউ
আল্লাহর ওপর
ভরসা
করে
তাহলে
আল্লাহ
তো
বড়ই
পরাক্রান্ত ও
মহাবিজ্ঞানী।
৫০)
আর
যদি
তুমি
দেখ,
যখন
ফিরিশতারা কাফিরদের রুহ
কবজ
করে;
তখন
প্রহার
করে,
তাদের
মুখে
এবং
তাদের
পশ্চাদদেশে। আর
বলে,
জ্বলন্ত আযাবের
স্বাদ
গ্রহণ
কর।
৫১)
এই
হলো
সে
সবের
বিনিময় যা
তোমরা
তোমাদের নিজের
হাতে
পূর্বে
পাঠিয়েছ। বস্তুতঃ এটি
এ
জন্য
যে,
আল্লাহ
বান্দার উপর
যুলুম
করেন
না।
৫২) এ
ব্যাপারটি তাদের
সাথে
ঠিক
তেমনিভাবে ঘটেছে,
যেমন
ফেরাউনের লোকদের
ও
তাদের
আগের
অন্যান্য লোকদের
সাথে
ঘটে
এসেছে।
তারা
আল্লাহর আয়াতসমূহ মেনে
নিতে
অস্বীকার করেছে।
এবং
সেজন্য
আল্লাহ
তা’আলা তাদের পাকড়াও করেছেন
তাদেরই
পাপের
দরুন।
নিঃসন্দেহে আল্লাহ
মহাশক্তিশালী, কঠিন
শাস্তিদাতা।
৫৩) তার কারণ
এই
যে,
আল্লাহ
কখনও
পরিবর্তন করেন
না,
সে
সব
নেয়ামত, যা
তিনি
কোন
জাতিকে
দান
করেছিলেন, যতক্ষণ
না
সে
জাতি
নিজেই
পরিবর্তিত করে
দেয়
নিজের
জন্য
নির্ধারিত বিষয়।
বস্তুতঃ আল্লাহ
শ্রবণকারী, মহাজ্ঞানী।
৫৪)
যেমন
ছিল
রীতি
ফেরাউনের বংশধর
এবং
যারা
তাদের
পূর্বে
ছিল,
তারা
মিথ্যা
প্রতিপন্ন করেছিল
স্বীয়
পালনকর্তার নিদর্শনসমূহকে। অতঃপর
আমি
তাদেরকে ধ্বংস
করে
দিয়েছি তাদের
পাপের
দরুন
এবং
ডুবিয়ে মেরেছি
ফেরাউনের বংশধরদেরকে। বস্তুতঃ এরা
সবাই
ছিল
যালেম।
৫৫)
যারা
কুফরী
করেছে
আল্লাহর নিকট
তারাই
সবচেয়ে নিকৃষ্ট জীব,
অতঃপর
আর
ঈমান
আনেনি।
৫৬)
তাদের
মধ্য
থেকে
যাদের
সাথে
তুমি
চুক্তি
করেছ,
অতঃপর
প্রতিবার তারা
নিজেদের কৃতচুক্তি লংঘন
করে
আর
তারা
(আল্লাহকে) ভয়
করে
না।
৫৭)
কাজেই
এ
লোকদের
যদি
তোমরা
যুদ্ধের মধ্যে
পাও,
তাহলে
তাদের
এমনভাবে শাস্তি
দেবে
যেন
তাদের
উত্তরসূরিরা তাই
দেখে
পালিয়ে যায়;
তাদেরও
যেন
শিক্ষা
হয়।
৫৮)
তবে
কোন
সম্প্রদায়ের ধোঁকা
দেয়ার
ব্যাপারে যদি
তোমাদের ভয়
থাকে,
তবে
তাদের
চুক্তি
তাদের
দিকেই
ছুঁড়ে
ফেলে
দাও
যেন
সমান
সমান
অবস্থা
বিরাজিত হয়।
নিশ্চয়ই আল্লাহ
ধোকাবাজদের পছন্দ
করেন
না।
৫৯)
আর
কাফিররা যেন
এটা
মনে
না
করে
যে,
তারা
বেঁচে
গেছে;
কখনও
এরা
আমাকে
পরিশ্রান্ত করতে
পারবে
না।
৬০)
আর
তোমরা
নিজেদের সামর্থ
অনুযায়ী সর্বাধিক পরিমাণ
শক্তি
ও
সদাপ্রস্তুত ঘোড়া
তাদের
মোকাবিলার জন্য
যোগাড়
করে
রাখো
যেন
তোমরা
ভীতসন্ত্রস্ত করতে
পার
আল্লাহর শত্রুকে, নিজের
শত্রুকে এবং
অন্য
এমন
সব
শত্রুকে যাদেরকে তোমরা
চিনো
না,
কিন্তু
আল্লাহ
তাদেরকে চেনেন।
বস্তুতঃ আল্লাহর পথে
তোমরা
যা
কিছু
খরচ
করবে,
তার
পূর্ণ
প্রতিদান তোমাদেরকে ফিরিয়ে দেয়া
হবে
এবং
তোমাদের প্রতি
কখনো
জুলুম
করা
হবে
না।
৬১)
আর
যদি
তারা
সন্ধি
করতে
আগ্রহ
প্রকাশ
করে,
তাহলে
তুমিও
সে
দিকেই
আগ্রহী
হও
এবং
আল্লাহর উপর
ভরসা
কর।
নিঃসন্দেহে তিনি
শ্রবণকারী; পরিজ্ঞাত।
৬২)
পক্ষান্তরে তারা
যদি
তোমাকে
প্রতারণা করতে
চায়,
তবে
তোমার
জন্য
আল্লাহই যথেষ্ট। তিনিই
তোমাকে
শক্তি
যুগিয়েছেন স্বীয়
সাহায্যে ও
মুমিনদের মাধ্যমে।
৬৩)
আর
প্রীতি
সঞ্চার
করেছেন
তাদের
অন্তরে। যদি
তুমি
সেসব
কিছু
ব্যয়
করে
ফেলতে,
যা
কিছু
যমীনের
বুকে
রয়েছে,
তবুও
তাদের
মনে
প্রীতি
সঞ্চার
করতে
পারতে
না।
কিন্তু
আল্লাহ
তাদের
মনে
প্রীতি
সঞ্চার
করেছেন। নিঃসন্দেহে তিনি
পরাক্রমশালী, সুকৌশলী।
৬৪)
হে
নবী!
আপনার
জন্য
এবং
যেসব
মুমিন
আপনার
সাথে
রয়েছে
তাদের
সবার
জন্য
আল্লাহই যথেষ্ট।
৬৫)
হে
নবী!
আপনি
মুমিনদের উৎসাহিত করুন
জিহাদের জন্য।
তোমাদের মধ্যে
যদি
বিশ
জন
দৃঢ়পদ
ব্যক্তি থাকে,
তবে
জয়ী
হবে
দু’শর মোকাবেলায়। আর
যদি
তোমাদের মধ্যে
থাকে
একশ
লোক,
তবে
জয়ী
হবে
হাজার
কাফিরের উপর।
কেননা
ওরা
হচ্ছে
জ্ঞানহীন।
৬৬)
(তবে)
এখন
আল্লাহ
তা’আলা তোমাদের উপর
দায়িত্বভার হালকা
করে
দিয়েছেন এবং
তিনি
জেনে
নিয়েছেন যে,
তোমাদের মধ্য
দূর্বলতা রয়েছে। কাজেই
তোমাদের মধ্যে
যদি
দৃঢ়চিত্ত একশ
লোক
বিদ্যমান থাকে,
তবে
জয়ী
হবে
দু’শর উপর। আর
যদি
তোমরা
এক
হাজার
হও
তবে
আল্লাহর হুকুম
অনুযায়ী জয়ী
হবে
দু’হাজারের উপর। আর আল্লাহ
সবরকারীদের সাথে
আছেন।
৬৭)
কোন
নবীর
পক্ষে
শোভনীয় নয়
সারা
দেশে
শত্রুদেরকে ভালভাবে পর্যুদস্ত না
করা
পর্যন্ত নিজের
কাছে
বন্দীদের রাখা।
তোমরা
পার্থিব সম্পদ
কামনা
কর,
অথচ
আল্লাহ
চান
আখিরাত। আর
আল্লাহ
হচ্ছেন
পরাক্রমশালী ও
বিজ্ঞ।।
৬৮)
আল্লাহর লিখন
যদি
আগেই
না
লেখা
হয়ে
যেতো,
তাহলে
তোমরা
যা
কিছু
(মুক্তিপণ হসেবে
গ্রহণ)
করেছো
সেজন্য
তোমাদের কঠোর
শাস্তি
দেয়া
হতো।
৬৯)
কাজেই
তোমরা
যা
কিছু
গণিমত
হিসেবে
লাভ
করেছো
তা
খাও,
কেননা,
তা
হালাল
ও
পাক-পবিত্র এবং আল্লাহকে ভয়
করতে
থাকো।
নিশ্চয়ই আল্লাহ
ক্ষমাশীল ও
করুণাময়
৭০)
হে
নবী!
তোমাদের হাতে
যেসব
বন্দী
আছে
তাদেরকে বলো,
'আল্লাহ
যদি
তোমাদের অন্তরে
ভাল
কিছু
দেখেন,
তাহলে
তিনি
তোমাদের থেকে
যা
নেয়া
হয়েছে
তা
থেকে
অনেক
বেশী
দেবেন
এবং
তোমাদের ভুলগুলোর মাফ
করে
দেবেন।
আল্লাহ
ক্ষমাশীল ও
করুণাময়'।
৭১)
আর
যদি
তারা
তোমার
সাথে
প্রতারণা করতে
চায়-বস্তুতঃ তারা আল্লাহর সাথেও
ইতিপূর্বে প্রতারণা করেছে,
অতঃপর
তিনি
তাদেরকে ধরিয়ে
দিয়েছেন। আর
আল্লাহ
সর্ববিষয়ে পরিজ্ঞাত, সুকৌশলী।
৭২)
এতে
কোন
সন্দেহ
নেই
যে,
যারা
ঈমান
এনেছে,
দেশ
ত্যাগ
করেছে,
স্বীয়
মাল
ও
জান
দ্বারা
আল্লাহর রাহে
জিহাদ
করেছে
এবং
যারা
তাদেরকে আশ্রয়
ও
সাহায্য সহায়তা দিয়েছে, তারা
একে
অপরের
বন্ধু।
আর
যারা
ঈমান
এনেছে
কিন্তু
দেশ
ত্যাগ
করেনি
তাদের
বন্ধুত্বে তোমাদের প্রয়োজন নেই
যতক্ষণ
না
তারা
দেশত্যাগ করে।
অবশ্য
যদি
তারা
ধর্মীয় ব্যাপারে তোমাদের সহায়তা কামনা
করে,
তবে
তাদের
সাহায্য করা
তোমাদের কর্তব্য। কিন্তু
তোমাদের সাথে
যাদের
সহযোগী
চুক্তি
বিদ্যমান রয়েছে,
তাদের
মোকাবেলায় নয়।
বস্তুতঃ তোমরা
যা
কিছু
কর,
আল্লাহ
সেসবই
দেখেন।
৭৩)
আর
যারা
কাফের
তারা
পারস্পরিক সহযোগী,
বন্ধু।
তোমরা
যদি
এমন
ব্যবস্থা না
কর,
তবে
দাঙ্গা-হাঙ্গামা বিস্তার লাভ করবে এবং
দেশময়
বড়ই
অকল্যাণ হবে।
৭৪)
আর
যারা
ঈমান
এনেছে,
নিজেদের ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং
আল্লাহর রাহে
জিহাদ
করেছে
এবং
যারা
তাদেরকে আশ্রয়
দিয়েছে, সাহায্য-সহায়তা করেছে,
তাঁরা
হলো
সত্যিকারে মুমিন।
তাঁদের
জন্যে
রয়েছে,
ক্ষমা
ও
সম্মানজনক রুযী।
৭৫)
আর
যারা
ঈমান
এনেছে
পরবর্তী পর্যায়ে এবং
ঘর-বাড়ী ছেড়েছে এবং
তোমাদের সাথে
সম্মিলিত হয়ে
জিহাদ
করেছে,
তারাও
তোমাদেরই অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু
আল্লাহর কিতাবে
রক্ত
সম্পর্কীয় আত্মীয়গণ পরস্পরের বেশী
হকদার।
নিশ্চয়ই আল্লাহ
যাবতীয় বিষয়ে
সবচেয়ে বেশি
অবগত।
0 মন্তব্যসমূহ