স্ব-শিক্ষিত লোক মাত্রই সু-শিক্ষিত
আমরা যে হুজুগে বাঙ্গালী তার প্রমাণ হচ্ছে FB-তে কিছু পোস্ট থেকে তা বুঝা যায়। কেউ দেখি মোদী ছবিসহ নিজের ছবি দিয়ে গুণ কৃর্তন করে। আবার নতুন আসলো দেখলাম “যে বিষয়ে ভাল যে বিষয়ে ভাল না” আবার দেখা যায় বিভিন্ন নায়িকার ছবিসহ লিখা অফুরন্ত ভালবাসার কথা। অশিক্ষিত লোক যারা নিজের সম্পর্কে চিন্তা চেতনায় খর্ব তার পক্ষে তা সম্ভব। কিন্তু আমার শিক্ষিত ছাত্রগুলোর এমন পোস্ট দেখে লিখতে ইচ্ছে হলো তাই লিখা (বিশেষ করে আমার ছাত্র-ছাত্রীর জন্য লিখা)।
মনে রাখবে পরিশ্রমে ধন আনে পূণ্য আনে সুখ, আলস্যে দারিদ্র আনে পাপে আনে দুঃখ। তুমি নিজেই তোমার ভাগ্যের নির্মাতা, যেমন এই লাইনটা দিয়ে তোমাদেরকে ক্লাশে বুঝিয়ে ছিলাম তুমি যদি পড়া লিখা না কর পাশ করবে না, ফেল করার অর্থই হচ্ছে দুঃখ।
ক্লাশে উদ্যত আচরণ দেখলে বলতাম, জন্ম হোক যথা তথা তোমরাই উত্তর দিতে কর্মে হোক ভাল। অর্থাৎ তোমার ভালগুণগুলো তোমার ভিতরে আছে কেউ তা বের করে আনতে পারবে না, তুমি যদি চেষ্টা না কর। সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত প্রমথ চৌধুরী লিখেছেন আমি তা পাল্টিয়ে তোমাদেরকে উদাহারণ (ছেলে আমার মস্ত মানুষ,মস্ত অফিসার মস্ত ফ্ল্যাটে যায় না দেখা এপার ওপার। নানান রকম জিনিস আর আসবাব দামী দামী সবচেয়ে কম দামী ছিলাম একমাত্র আমি। ছেলের আমার আমার প্রতি অগাধ সম্ভ্রম আমার ঠিকানা তাই বৃদ্ধাশ্রম!) দিয়ে বুঝিয়ে দিতাম স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই সুশিক্ষিত।
মানবিক কাজগুলোতে তোমাদের গান শুনাতাম (মানুষ মানুষের জন্য জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভূতি কি মানুষ পেতে পারে না)। যদি কোন কাজ করার জন্য লজ্জা পেতে কেউ কিছু মনে করবে এমন চিন্তা, তাহলে তোমাদের উদাহারণ দিতাম (পাছে লোকে কিছু বলে) কবিতাটা দিয়ে।
মনুষ্যত্বের পরিবর্তন দেখলে বলতাম (শিক্ষক হিসেবে আমার মনে যদি হিংস্রতা থাকে তাহলে আমি মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে পারব না)। আমার সামনে কোন শিক্ষককে নিয়ে অসম্মান করে কথা বললে বলতাম (একজন শিক্ষককে সম্মান করতে গিয়ে অন্য একজন শিক্ষককে কোনদিন অপমান করবে না)। অন্য কোন পরিবর্তন দেখলে বলতাম (মানুষ মরে গেলে পঁচে যায় বেঁচে থাকলে বদলায় কারণে অকারণে বদলায় সকালে বিকালে বদলায়)।
এরকম অনেক উদাহরণ তোমাদের সামনে তুলে ধরা আছে যা ভবিষ্যত জীবনে তোমার চলার পথে কাজে লাগবে বলে আশা রাখি, অন্যতায় আমার শিক্ষাতো বিফল। কল্পনা দিয়ে স্বপ্ন দেখা যায়, স্বপ্নের বাস্তবায়ন হয় না। সবাই নজরুল বা বিলগেটস হতে পারবে না এটা সত্যি, (কথায় আছে তুমি তোমার কপালের দিখে তাকাইও না, তুমি তোমার বাহুর দিকে তাকাও)। তবে খাওয়ার জন্য বেঁচে থাকা নয় বেঁচে থাকার জন্য খেতে পারবে।

0 মন্তব্যসমূহ