ভালবাসা
কাউকে যদি ভালবাসেন এমন উপলিব্দি যদি মনে আসে
তাহলে বুঝবেন সেটা ভালবাসা নয় তা হলো ভাললাগা আর সেই ভাললাগা থেকেই উৎপত্তি হয় ভালবাসার।
এটা পুরোপুরি মানসিক ব্যাপার যা মানুষের
মনের মধ্য থেকেই ঘটে। যাকেই
ভালোবাসেন অবশ্যই তাকে সবার আগে স্থান দিতে হবে, তাদের জন্য সব কিছুই করার চেষ্টা
করতে হবে নিজ থেকেই, নিজ দায়িত্বে। অধিকাংশ প্রচলিত ধারণায় ভালবাসা, নিঃস্বার্থতা,
বন্ধুত্ব, মিলন, পরিবার এবং পারিবারিক বন্ধনের সাথে গভীরভাবে যুক্ত। নিজের সকল মানবীয়
অনুভূতি ভাগ করে নেয়া, আর এই অতি আনন্দদায়ক অনুভূতিই হলো ভালবাসা। তাদের ইচ্ছা ও আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিতে হবে, পূরণ করতে
হবে সবার আগে এগিয়ে এসে। ভালোবাসা হলো এমন একটি শর্ত যা অন্য একজন বা একাদিক
ব্যক্তির সুখ নিজের জন্য দরকার। মনে রাখবেন, “প্রিয়জনকে ভালোবাসলে পৃথিবীর সবটুকু ভালোবাসা
দিতে হয়।” তা হতে পারে বাবা-মা, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজনের
মধ্যেও কেউ, বন্ধু বা বান্ধবী আবার এমনও হতে পারে আপনার কাছের খুব কাছের কেউ। ভালবাসাকে একটি ব্যক্তিগত
অনুভূতি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেটা একজন মানুষ অপর আরেকজন মানুষের প্রতি অনুভব করে।
এখানে মানবিক আবেগটাই বেশি গুরুত্ব বহন করে এবং কল্পনাবিলাসিতার বিশেষ ক্ষেত্র হচ্ছে
এই ভালবাসা। ভালোবাসায় মানুষ একে অন্যকে অনেক বিশ্বাস করে। একে অন্যকে প্রচুর সময় দেয়।
পছন্দের মানুষের করা কাজকে নিজের মনে করে। সেক্সপিয়ার বলেছেন, ”অভাব যখন দুয়ারে এসে
দাঁড়ায় ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালায়।” আর তার বিপরীতে আমি বলি, ”অবিশ্বাস যখন মনের
দৌড়গোড়ায় ভালোবাসা তখন মন থেকে পালায়।”
বিশেষ
কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশই হচ্ছে ভালবাসা। এই বিশেষ কাউকে ভালবাসার আগে বলবো বন্ধুত্ব তৈরি করেন, একটু সময় নেন, যাতে একজন অন্যজনকে
বুঝে উঠতে পারেন, ভবিষ্যত চলার পথ দূর্গমও হতে পারে। কিছু সম্পর্ককে অন্তরঙ্গ
বন্ধুত্ব বলেও অভিহিত করা হলেও ভালবাসা শুধুমাত্র বন্ধুত্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
কারো প্রতি অতিরিক্ত যত্নশীলতা কিংবা প্রতিক্ষেত্রে তার উপস্থিতি অনুভব করা ভালবাসার
সাথে সাড়াসড়ি সম্পর্কযুক্ত। যখন কাউকে ভালবাসবেন তখন সেই কেবল হবে আপনার চালিকাশক্তি।
তার ভালোলাগা, মন্দ লাগা আপনার কাছে বিশাল একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। ছোট ছোট ব্যপার
নিয়ে তার সাথে ঝগড়া, তার করা কাজগুলোতে নিজেকে খুঁজা, তাকে সুখে রাখার চেষ্টা হয়ে যায়
দায়িত্ব ও কর্তব্য। প্রতিটি চিন্তা ও চেতনায় জেগে থাকবে ভালবাসার মানুষটা। বলতে বাধ্য
হয়ে পরে,”প্রেম জেগেছে আমার মনে বলছি আমি তাই, তোমায় আমি ভালবাসি তোমায় আমি চাই।”
ভালোবাসাকে
বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়: আবেগধর্মী
ভালোবাসা, কল্পনাপ্রবণ ভালোবাসা, প্রতিশ্রুতিপূর্ণ ভালোবাসা। একটি শক্তিশালী
আবেগ মিশ্রিত দিক , আকর্ষণীয় দিক, মৃদু এবং উষ্ণ সম্পর্ক বিদ্যমান, কিছু আবেগপ্রবণতা
এবং উষ্ণতা অনুভব, শখ প্রদান করে, বেশি বন্ধুত্ব
হয়, সবসময়ই স্নেহ, একই সময়ে মানুষ একে অপরের সংযুক্ত হয়, একটি অপরিহার্য উপাদান
শ্রদ্ধানিবেদন এবং ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া অনিশ্চয়তা বস্তুর উপর নির্ভরশীল। ভালোবাসা
পুরোপুরি ভিন্ন হতে পারে, সুখ বা দুঃখ
বহন, বিস্ময়কর ঘূর্ণাবর্ত মধ্যে নিক্ষেপ বা চিরকালের জন্য ব্যথা কারাগারে
চূর্ণনশব্দ। ভালবাসি
ভাবলে মনের বিস্তার, হৃদয়ের ব্যাপ্তি, প্রাণে উল্লাসের জোয়াড় উঠে। প্রতিটি সম্পর্ক
সুন্দর যদি তার উত্তরণ হয় তাহলে 'আপনি থেকে 'তুমি'র দিকে রূপ নেয়। তাই ভালোবাসা একটি মানবিক এবং আবেগকেন্দ্রিক
অনুভূতি। ভালবাসার সবচেয়ে চরম ও মন ভুলানো অভিব্যক্তি, “তুমি যদি বল পদ্মা মেঘনা একদিনে
দেব পাড়ি, তুমি যদি বল চাঁদের বুকে বানাবো আমার বাড়ি, তুমি আমার শুধু আমার ভাললাগা
কবিতা।”
মানুষের মাঝে তৈরি হওয়া বন্ধুত্ব
ধীরে ধীরে মনের গহীনে এক অজানা অনুভুতি সৃষ্টি করে তা থেকেই রূপ নেয় ভালবাসার। যদি
কারো মন-মানসিকতা, গুন দেখে মুগ্ধ হন এবং আপনি যে কোনো মূল্যে তার ভালো চান সেটাই
হবে ভালবাসা। ভালবাসা কারো বাহ্যিক সৌন্দর্য দেখে হয় না, ভালোলাগা থেকেই ভালবাসার
সূত্রপাত এবং তা আপনা-আপনিই সৃষ্টি হয়। ভালবাসা কখনো শেষ হয় না এটি মানুষের মাঝে ধীরে
ধীরে কেবল বৃদ্ধিই পায়। ভালবাসায় যেকোনো সমস্যাকে খুব যত্ন করে সমাধানে আনা হয়। ভালোবাসা
হলো গাছকে পরিচর্যা করে তাতে ফুল ফোটানো এবং ফল ফলানো। আর এই ভালোবাসাই হলো
সম্পর্ক জিইয়ে রাখার প্রাণ ও মূলমন্ত্র এবং একের প্রতি অন্যের বিশ্বাস। এ জন্যই
বলি ”বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহুদূর।” ভালোবাসা অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হয়।
যদিও বলে ভালবাসার রং নীল, এর বিশেষ কোন রং নেই। ভালোবাসা মানে কাউকে জয় করা নয়,
পছন্দকে হাসিল করে নেয়া নয় বরং নিজেই কারো জন্য হেরে যাওয়া। কারো অন্তরের সাথে
নিজের অন্তরকে একাত্ব করে নেয়া, নিজের মনকে সঁপে দেয়া এটা চোখের বা জ্ঞানের গভীরতা
দিয়ে হয় না, হয় হৃদয় এর পবিত্রতা দিয়ে। ভালোবাসা টিকে থাকে পরস্পরের বিশ্বাসের
মধ্যে। যে ভালোবাসায় বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দেয় সেখানে প্রেম থাকে না, থাকে
সামাজিকতা রক্ষা। রবীন্দ্রথের হৈমন্তী গল্পের একটা লাইন মনে পড়ে গেল, “পণের
মন্ত্রে স্ত্রীকে পাওয়া যায় বটে তবে পনেরো আনা বাকী থাকে।”
ভালবাসা এক মধুর অনুভূতির এবং
একগুচ্ছ আবেগের নাম। যাকে আপনি ভালবাসেন তাকে দেখলে হার্টবিট বেড়ে যাবে। ভালবাসা মনকে শান্তি দেয়, হৃদয়কে শীতল করে। ”ফুল
পবিত্রতার প্রতীক তোমাকে ভালোবাসিগো তাই তোমার পাপড়িতে প্রিয়াকে দেখতে পাই।” আমরা
কয়জন তা রক্ষা করতে পারি।
ভালবাসায় মানুষের জীবন সুন্দর হয় তবে যেখানে সেই সৌন্দর্য হারিয়ে যায় সেটা ভালবাসা নয়। যদি তাকে তোমার সাথে থাকার চেয়ে তাকে আরও ভালো জায়গায় থাকতে দাও তবে সেটাই তোমার ভালবাসা। আমাদের মনযোগ যদি শুধু ভালবাসার প্রতি থাকে তবে অদূর ভবিষ্যতে ভালবাসা অর্থের অভাবে, আয় উন্নতির অভাবে সামান্য দুরত্ব পর্যন্তই এগোতে পারে। ধীরে ধীরে যা গভীর হওয়া উচিত ছিল তা ধীরে ধীরে কমতে শুরু হয় শুধু অভাব নামক কালো থাবার জন্য। অর্থ আর ভালবাসাকে আমরা উত্তর মেরু আর দক্ষিন মেরু মনে করি, তারা যে একে অন্যের পরিপূরক তা বোঝার চেষ্টা করি না। অর্থ আমাদের কাউকে আরও ভালবাসতে সাহায্য করে, অর্থ আমাদের ভালবাসার শুশ্রুষা করে, অর্থের কোলে ভালবাসা বড় হয়। আমাদের সাথে যে আছে তার ভেতরে এই গুনগুলি খুঁজে পেলে আমরা সবাইকে তার উপযুক্ত জায়গায় রেখে ভালবাসতে পারি। আমরা অনেকেই ভাবি জীবনে ভালবাসাই সব, অনেকে মনে করে শুধু ভালবাসলে বা ভালবাসা পেলে সুখী জীবন পাওয়া যায়। আসলে কথাটা সত্যি নয়, যেমন আপনি কাউকে ভলোবসলেন সেও আপনাকে প্রচন্ড ভালবসলো। একে অপরকে প্রচুর সময় দিচ্ছেন কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হতে পারলেন না (যেমন আয়-উপার্যন বা আর্থিক উন্নতি)। দেখবেন তখন আপনাকেই বলতে হবে, ”তুমি জোছনায় জাগিছো নিশী সাথে লয়ে নতুন সাথী।”
0 মন্তব্যসমূহ