১ম খোৎবা
এলমের ফযীলত ও উহা শিক্ষা করা ওয়াজেব হওয়া সম্পর্কে
পরম করুনাময় অসীম দয়ালু আল্লাহর নামে আরম্ভ করছি
(১) সর্ববিধ প্রশংসা সেই মহা সম্মানী
আল্লহর জন্য যিনি মানবজাতীকে সৃষ্টি করে তাকে সন্মান দান করেছেন এবং সেই ভাষা শিক্ষা
দিয়েছেন যা সে জানত না।
(২) আমরা তাঁরই পবিত্রতা বর্ণনা করি
যাঁর অনুগ্রহ মুখে বলে বা কলমে লিখ শেষ করা যায় না।
(৩) আর আমরা সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহতাআলা
ব্যতীত অন্য কোন মা’বুদ নেই। তিনি একক, তাঁর কোন শরীক নেই।
(৪) আমরা আরও সাক্ষ্য দিতেছি যে, আমদের
সরদার ও নেতা হযরত মুহাম্মদ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁরই বান্দা ও রাসূল,
যাঁকে ব্যাপক ভাষা-জ্ঞান এবং মর্যাদাপূর্ণ হেকমৎ ও উন্নত চরিত্র দান করা হয়েছে। আল্লহ
তাঁর উপর, তাঁর পরিবারবর্গ ও ছাহাবীগণের উপর রহমত ও শান্তি বর্ষণ করুন যাঁরা ছিলেন
সরল পথের দিশারি তারকা তুল্য।
(৫) অতঃপর-এল মে শরীঅত ও উহার বিধি-নিষেধ-এর
জ্ঞান অর্জন করা ইসলামের গৃরুত্বপূর্ণ বিধান।
(৬) এই কারণেই উন্মতগণকে সেই এল্ম শিক্ষা
করা ও শিক্ষা প্রদানের নির্দেশ ও উৎসাহ দেয়া হয়েছে।
(৭) কাজেই রাসুলুল্লাহ (দঃ) এরশাদ করেছেন
তোমারা আমার পক্ষ হতে যদি একটি বাণীও হয় জনসমাজের নিকট পৌঁছিয়ে দাও।
(৮) রাসুলুল্লাহ (দঃ) আরও বলেন যে ব্যাক্তি
এল্ মে দীন শিক্ষার জন্য পথ চলে আল্লাহ তা’আলা তাহার জ্ন্য বেহেশ্-তের পথ সহজ করে দেন।
(৯) হুযুর (দঃ) আরও বলেন আল্লাহ তা’আলা
যার মঙ্গল কামনা করেন তাকে তিনি ধর্ম বিষয়ক জ্ঞান দান করেন।
(১০) নবী করীম ছাল্লাল্লাহু আলাইহি
ওয়াসাল্লাম বলেছেন নিশ্চয় আলেমগন নবীদের ওয়ারেস। আর বস্তুত নবীগন (আঃ) ত্যাজ্য সম্পদ
হিসাবে কখনও দীনার বা দেরহাম রেখে যান নেই। তাঁদের পরিত্যক্ত সম্পদ শুধু এল্-মে-দীন।
সুতরাং যে ব্যক্তি এল্ম অর্জন করে সে ত্যাজ্য সম্পত্তি এক বড় অংশ লাভ করে।
(১১) রাসুলুল্লাহ (দঃ) আরও বলেন ’এল্ম
অন্বেষণ করা প্রত্যেক মুসলমানের উপর ফরয’।
(১২) তিনি আরও বলেন যে ব্যক্তি কোন
মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হইয়া জানা সত্বেও উহা গোপন রাখে, কিয়ামত দিবসে তাহাকে আগুনের
লাগাম পরান হবে।
(১৩) নবী করীম (দঃ) বলেছেন যে এল্ম
দ্বারা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভ করা যায়, যদি কেহ পার্থিব সম্পদ লাভের উদ্দেশ্যেই শিক্ষা
করে, কিয়ামত দিবসে ঐ ব্যক্তি বেহেশতের ঘ্রাণও পাবে না।
(১৪) নবী (দঃ) বলেছিলেনঃ তোমরা ধর্মীয়
বিধানগুলি এবং কোরআন শরীফ শিক্ষা কর, অপরকে শিক্ষা দাও, কারণ আমাকে মরতেই হবে।
(১৫) বিতাড়িত শয়তান হতে আল্লাহ তা’আলার
নিকট আশ্রয় চাইতেছি।
(১৬) (আল্লাহ্ পাক বলেনঃ) কি ঐ ব্যক্তি
(উওম) যে নিশিথে সেজদায় পড়িয়া এবং দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া এবাদতে বিভোর হয়, পরকালের ভয় করে
এবং তাহার প্রতিপালকের রহমতের আশা রাখে, (না ঐ ব্যক্তি যে নাফরমান? হে রাসূল !) আপনি
বলে দেন, যাহারা জানে এবং যাহারা জানে না তাহারা কি সমান হতে পারে? নিশ্চয় তারাই চিন্তা
করে থাকে যারা জ্ঞানবান।
0 মন্তব্যসমূহ