নিম্নে এমন কিছু আমল তুলে ধরা হলো,যেগুলোতে দেরি করা উচিত নয়।
আল্লাহর প্রতি ঈমান : মানুষের জন্য
সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো ঈমান। যে ব্যক্তি ঈমান না এনে মৃত্যুবরণ করল, তার গোটা জীবনের সব আমলই অর্থহীন হয়ে পড়বে। এ কারণে প্রত্যেকের উচিত, সর্বপ্রথম মহান আল্লাহর ওপর ঈমান আনা এবং রাসুল (সা.)-কে আল্লাহর প্রেরিত রাসুল হিসেবে মেনে নেওয়া। এক কথায় ইসলাম গ্রহণ করা। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কাছে মনোনীত একমাত্র দ্বিন হলো ইসলাম।’ ( সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ১৯)
নামাজ : নামাজ আল্লাহপাক ও তাঁর বান্দার মধ্যকার সেতুবন্ধ তৈরির ইবাদত। কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘নিশ্চয় কিয়ামতের দিন বান্দার যে কাজের হিসাব সর্বপ্রথম নেওয়া হবে তা হচ্ছে তার নামাজ।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৮৬৪)
জানাজা : আলী (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, হে আলী! তিনটি বিষয়ে দেরি করবে না—(১) নামাজের সময় হয়ে গেলে আদায় করতে দেরি করবে না। (২) জানাজা উপস্থিত হয়ে গেলে তাতেও দেরি করবে না। (৩) স্বামীবিহীন নারীর উপযুক্ত বর পাওয়া গেলে তাকে বিয়ে দিতেও দেরি করবে না। (তিরমিজি, হাদিস : ১০৭৫)
বিয়ে করা বা বিয়ে দেওয়া : পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে যারা বিয়েহীন, তাদের বিয়ে সম্পাদন করে দাও এবং তোমাদের দাস ও দাসীদের মধ্যে যারা সৎকর্মপরায়ণ, তাদেরও। তারা যদি নিঃস্ব হয়, তবে আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে সচ্ছল করে দেবেন। আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ। যারা বিয়ে করতে সমর্থ নয়, তারা যেন সংযম অবলম্বন করে যে পর্যন্ত না আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে তাদেরকে অভাবমুক্ত করে দেন।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ৩২-৩৩)
তাওবা করা : মানুষকে যেকোনো সময় দুনিয়ার মায়া ত্যাগ করে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে, যদি তার আগে কৃত গুনাহ থেকে তাওবা করা সম্ভব না হয় তাহলে এর চেয়ে বড় বিপদের কথা আর কী হতে পারে। তাই কোনো গুনাহ হয়ে গেলে দ্রুত তাওবা করে নেওয়া উচিত। পবিত্র কোরআনের বহু জায়গায় মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবার মাধ্যমে পাপমুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর নিকট তাওবা করো; খাঁটি তাওবা।’ (সুরা : তাহরিম : আয়াত : ৮)
হজ : হজ মহান আল্লাহ পাকের নৈকট্য লাভের অন্যতম সেরা উপায়। সামর্থ্যবান মুসলমানদের ওপর হজ ফরজ। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘মক্কা শরিফ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আল্লাহর জন্য হজ আদায় করা ফরজ। (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৯৭)
এ ছাড়া ইফতারের সময় হলে ইফতার করা,কারো সঙ্গে ওয়াদা করলে তা পালন করাসহ বহু আমল এমন আছে যেগুলোতে দেরি করা উচিত নয়। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি আমল করার তাওফিক দান করুন।
৪) ৭০৫২. ‘আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘উদ (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের বলেছেন: আমার পরে তোমরা অবশ্যই ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করবে। এবং এমন কিছু বিষয় দেখতে পাবে, যা তোমরা পছন্দ করবে না। তাঁরা জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম! তাহলে আমাদের জন্য কী হুকুম করছেন? উত্তরে তিনি বললেনঃ তাদের হক পূর্ণরূপে আদায় করবে, আর তোমাদের হক আল্লাহর কাছে চাইবে। [৩৬০৩] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৫৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৫৭৫)
0 মন্তব্যসমূহ